জুলাইয়ের শুরু থেকে ভারী বর্ষা বৃষ্টি দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশে তীব্র বন্যার সৃষ্টি করেছে, যা ১০টি জেলায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রবল বর্ষা বৃষ্টি এবং ঊর্ধ্বপ্রবাহ থেকে জলপ্রবাহ বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র বন্যা সৃষ্টি করেছে, বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছে এবং দশটি জেলায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলা, যেখানে ব্যাপক প্লাবন ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং কৃষিজমির ক্ষতি করেছে। ২ লক্ষ ৬৭ হাজারেরও বেশি পরিবার আটকা পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে যেখানে ৩৮ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এটিকে বছরের সবচেয়ে তীব্র বর্ষা জরুরি অবস্থাগুলির একটি হিসাবে বর্ণনা করেছে। ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলিতে চাল, শুকনো খাবার এবং নগদ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা যোগাযোগ নেটওয়ার্ককেও ব্যাহত করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল জুড়ে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
রাজশাহী বিভাগ এই বিশেষ বন্যা ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে না থাকলেও, আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ আগে জুলাই মাসে উত্তরাঞ্চলে সম্ভাব্য বন্যা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। বর্ষা মৌসুম জুড়ে আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং নদীর জলস্তর সম্পর্কে অবগত থাকার জন্য বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্ষা মৌসুম অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে বৃষ্টিপাতের ধরণ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে বঙ্গোপসাগরে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃষ্টিপাতের ঘটনাগুলিকে তীব্র করছে, যা বাংলাদেশকে বর্ষার মাসগুলিতে এই ধরনের চরম আবহাওয়ার জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।