জুলাই ২০২৬ বন্যায় বাংলাদেশ জুড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বন্যার ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে।
ভারী বর্ষণ বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জুলাই ২০২৬ সালে বাংলাদেশ জুড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি সংস্থা এবং জাতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এই দুর্যোগে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে, হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলে জীবিকা ব্যাহত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) ৩ জুলাই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা হতে পারে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ বেশ কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলার জন্য বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
বন্যা কৃষিতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে, প্লাবিত ফসলি জমি মৌসুমি খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই দুর্যোগে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাজার হাজার মাছের খামার ধ্বংস হয়েছে এবং যোগাযোগ ও অত্যাবশ্যক সরকারি সেবা ব্যাহত হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে নওগাঁর মতো উত্তরাঞ্চলের ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো বন্যা-আক্রান্ত এলাকার ফসল ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল জুড়ে 구ত্রাণ এবং প্রস্তুতি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অর্থনৈতিক পরিণতি তাৎক্ষণিক ধ্বংসের বাইরে বিস্তৃত, যা কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসাকে প্রভাবিত করছে। ক্ষুদ্র কৃষক ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকরা বিশেষ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন কারণ তারা একই সাথে উৎপাদনশীল সম্পদ এবং আয় উভয়ই হারাচ্ছেন, যা পুনরুদ্ধারকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।