প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে, যাতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জুড়ে মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ সহ সাতটি জেলা জুড়ে বন্যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে।
গত শনিবার, ১১ জুলাই পর্যন্ত এই দুর্যোগে হাজার হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ২,৬৭,৯১৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার ও 构ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক বাসিন্দা বন্যার পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে রান্না করতে পারছেন না, আবার অনেকে রান্নাঘর এবং বসবাসের জায়গা কাদায় ঢেকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন।
বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলির মধ্যে একটি, যেখানে মৌসুমি বৃষ্টিপাত নিয়মিতভাবে বন্যা, নদী ভাঙন এবং ভূমিধসের সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম বৃষ্টিপাত আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হচ্ছে, যা এই ধরনের দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা বৃদ্ধি করছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাহায্য পৌঁছাতে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে এই বন্যা দক্ষিণ-পূর্ব জেলাগুলিকে প্রভাবিত করলেও মৌসুমি মৌসুম সারাদেশে ঝুঁকি সৃষ্টি করে। রাজশাহী বিভাগ এবং নওগাঁ জেলা সহ সমগ্র বাংলাদেশের বাসিন্দাদের প্রবল বর্ষণের সময় সতর্ক থাকার এবং বন্যা প্রস্তুতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।